সাঈয়েদুল মুরছালীন মিরাজ:
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনী হাওয়া বহমান থাকলেও প্রার্থী নির্বাচনে ধোয়াশা থেকে গেলো খুলনা ১ আসনে। ৬ টি আসনের মধ্যে ৫ টিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষনা করলেও আসন ১ এ থেকে গেল জটিলতা।এই আসনে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারনের মুখ্য ভূমিকা রাখবে সনাতন ধর্মাবলম্বিরা।
সংসদীয় আসন ৯৯ খুলনা-১ মানে বৃহত আসন, যা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত, দাকোপ-বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসন ১ এর মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ৬৪৪ জন। এর মধ্যে দাকোপে ভোটার আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৭ জন। সনাতন ধর্মের ভোটার সংখ্যা বেশী থাকায় এই আসনটি আওয়ামীলীগের আসন হিসাবে পরিচিত। এই আসন থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দুূর করার জন্য বি এন পি ও ইসলামী দল গুলো জোরালো কার্যক্রম চালাচ্ছে জনসাধারনের মধ্যে। বিএনপির জোট শরীক বা সমমনা কোন দলের এ আসনে তেমন কোন সাংগঠনিক অবস্থা নেই। খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব আমির এজাজ খান বিগত ১৭ বছর হামলা মামলার শিকার হয়ে টিকে থাকা এই ত্যাগী নেতাকে দল নিশ্চয় মূল্যয়ন করবেন এই আশা নিয়ে আছেন তিনি এবং তার সমর্থকরা। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং তৎকালীন মহসিন হলের নির্বাচীত ক্রীড়া সম্পাদক জিয়াউর রহমান পাপুল তার জোর প্রতিদ্বন্দি। ৯০ দশকের এই নেতা, নির্বাচনী এলাকা জুড়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক গনসংযোগ ও প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ২ নেতার অনুসারীরা প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গনসংযোগ অব্যহত রেখেছেন। অপরদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি পার্থ দেব মন্ডল সনাতন ধর্মের হওয়ায় নির্বাচনি ফলাফল ভালো হবে মনে করে মনোনয়নের আশায় গনংযোগ করছেন। এ ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের খুলনা জেলা ছাত্র ও যুবদলের সাবেক সভাপতি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম শামিম কবির, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তৈয়েবুর রহমান ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সচীব এ্যাডঃ গোবিন্দ হালদার। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ দলের বটিয়াঘাটা উপজেলা আমির মাওলানা শেখ আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের খুলনা জেলা সহসভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ দলের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী মাঠে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ আদম শুমারী ২০২২ অনুযায়ী, দাকোপে মোট জনসংখ্যা ১৫৯৩৬৯। যার হিন্দু ৮৬৭৬৬, মুসলিম ৬৯২১২, খ্রীষ্টান ৩৩৮১ এবং অন্যান্য ১০ জন। সে হিসাবে মুসলিম ৪৩.৪৩% এবং হিন্দু ভোটার আছে ৫৪.৪৫%। হিন্দু সম্প্রদায়কে বরাবরই আওয়ামী অনুসারী নৌকার ভোটার বলে মনে করা হয়। ১ আসনের প্রার্থী এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা ফলাফল বদলে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তবে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার এলাকার উন্নয়ন অপেক্ষা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ভোট দিবেন। সম্প্রতি খুলনার ডুমুরিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত জামায়াতের বিশাল হিন্দু সমাবেশের বাতাস লেগেছে হিন্দু অধ্যুষিত এ অঞ্চলে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় মোড়ল বলেন, ৫ আগষ্ট ২০২৪ শে তৎকালীন সরকার পতনের পর দেশে সংগঠিত নানা ঘটনার উত্তাপ দাকোপেও লেগেছিলো। বলতে পারেন অনেকটা ভয় ভীতির মধ্য দিয়ে আমাদের দিন কাটছে। সঙ্গত কারনে এবার সনাতনীরা দল বা প্রার্থী পছন্দে নিজেদের সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে ভোটাধীকার প্রয়োগ করবে।